সারা বাংলাদেশে হোম ডেলিভারি · ক্যাশ অন ডেলিভারি ও bKash
সব লেখা

গাইড

নবজাতকের প্রয়োজনীয় জিনিসের তালিকা: প্রথম তিন মাসের সম্পূর্ণ চেকলিস্ট

নীলঘুড়ি টিম ৮ মিনিটতথ্য যাচাইকৃত ও নির্দেশিকা সমর্থিত

নতুন বাবু আসছে? কাপড়, ডায়াপার, ঘুমের ব্যবস্থা থেকে গোসলের জিনিস পর্যন্ত প্রথম তিন মাসে আসলে কী লাগে আর কী না কিনলেও চলে, তার একটা গোছানো চেকলিস্ট।

রাত দুটো। ফোনে একটার পর একটা অনলাইন পেজ স্ক্রল করছেন, কার্টে জমছে ছোট ছোট জামা, তিন রকমের ফিডার, গান-গাওয়া দোলনা। পাশ থেকে খালা বলছেন সরষের বালিশ লাগবে, বান্ধবী বলছে ওয়াইপস ছাড়া চলবেই না। নতুন বাবা-মায়ের এই দ্বিধা খুব চেনা। আসল প্রশ্নটা হলো, নবজাতকের প্রয়োজনীয় জিনিস আসলে কোনগুলো, আর কোনগুলো না কিনলেও কিছু আটকাবে না?

ভালো খবর হলো, প্রথম তিন মাসে নবজাতকের চাহিদা আসলে খুব সাদামাটা: খাওয়া, ঘুম, পরিষ্কার থাকা আর উষ্ণ থাকা। এই লেখায় সেই চারটা দরকার ধরে একটা চেকলিস্ট সাজানো হয়েছে, সঙ্গে আছে কোন জিনিসে নিরাপত্তার দিকটা খেয়াল রাখতে হবে আর কোন কেনাকাটা পরে করলেও চলবে।

তালিকাটা যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা (NHS), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) আর আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসের (AAP) নির্দেশনার সঙ্গে মিলিয়ে বানানো। তবে আপনার শিশুর জন্য বিশেষ কিছু লাগবে কি না, সেটা সবসময় তার চিকিৎসকই ভালো বলতে পারবেন।

আগে বুঝে নিন: নবজাতকের আসল চাহিদা চারটা

কেনাকাটার আগে মাথায় রাখুন, জিনিসের সংখ্যা দিয়ে যত্ন মাপা যায় না। NHS-এর নবজাতকের কেনাকাটার তালিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, বেশিরভাগ জিনিস নতুন না হলেও চলে; আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে পাওয়া পরিষ্কার কাপড় বা জিনিস দিব্যি ব্যবহার করা যায়। ব্যতিক্রম শুধু বিছানার ম্যাট্রেস আর গাড়ির কার সিট, এ দুটো নতুন কেনাই ভালো।

চারটা চাহিদা মাথায় রেখে তালিকা ভাগ করলে কেনাকাটা অনেক সহজ হয়:

  • খাওয়া: বুকের দুধ, অথবা চিকিৎসকের পরামর্শে ফর্মুলা
  • ঘুম: একটা নিরাপদ, আলাদা ঘুমের জায়গা
  • পরিষ্কার থাকা: ডায়াপার, গোসল আর ত্বকের যত্ন
  • উষ্ণ ও আরামে থাকা: মৌসুম অনুযায়ী কাপড়

নবজাতকের প্রয়োজনীয় জিনিস: কাপড়চোপড়

নবজাতক দিনে কয়েকবার কাপড় ভেজাবে, দুধ তুলবে, ডায়াপার উপচে যাবে। তাই কাপড় লাগবে বেশ কয়েক সেট, তবে খুব দামি বা জমকালো না হলেও চলবে। NHS-এর তালিকায় অন্তত ছয়টা স্লিপস্যুট (পুরো শরীর ঢাকা জামা) আর চার থেকে ছয়টা ভেস্ট রাখার কথা আছে, সঙ্গে মৌসুম বুঝে উলের বা সুতির কার্ডিগান আর একটা টুপি।

বাংলাদেশের আবহাওয়ায় কিছু বাড়তি কথা মাথায় রাখুন:

  • সুতির কাপড় বেশি রাখুন। গরমের মাসগুলোতে পাতলা সুতির জামাই সবচেয়ে আরামের।
  • সামনে খোলা বা কাঁধে বোতাম দেওয়া জামা নিন। নবজাতকের ঘাড় শক্ত হয় না, মাথা গলিয়ে জামা পরাতে বাবা-মা দুজনেরই কষ্ট হয়।
  • নিচে স্ন্যাপ বা বোতামওয়ালা ভেস্ট ডায়াপার বদলাতে সুবিধা দেয়।
  • শীতে বাড়তি স্তর: WHO বলছে নবজাতককে বড়দের চেয়ে এক-দুই স্তর বেশি কাপড় পরিয়ে উষ্ণ রাখতে, মাথা টুপিতে ঢেকে। তবে ঘরের ভেতরে গরম লাগলে বা ঘুমানোর সময় বাড়তি কাপড় আর টুপি খুলে দিন; ঘাড় বা বুকে হাত দিয়ে দেখুন ঘেমে যাচ্ছে কি না।
  • কাঁথা: আমাদের ঘরে পুরনো সুতির কাপড়ের নরম কাঁথা প্রায় সবার থাকে। কোলে নেওয়া বা জড়িয়ে রাখার জন্য এগুলো দারুণ, তবে ঘুমানোর সময় কাঁথা কীভাবে দেবেন, সেটা নিচের ঘুমের অংশে দেখুন।

সাইজ নিয়ে দ্বিধা থাকলে আমাদের শিশুর সাইজ ক্যালকুলেটর দেখে নিতে পারেন। নবজাতক খুব দ্রুত বড় হয়, তাই একদম ছোট সাইজের জামা বেশি না কিনে কয়েকটা এক সাইজ বড়ও রাখুন।

ঘুমের জায়গা: যেখানে সবচেয়ে সাবধান থাকা দরকার

এই অংশে কিপটেমি বা ছাড় নয়, কারণ এখানে প্রশ্নটা আরামের চেয়ে বেশি নিরাপত্তার। AAP-এর নিরাপদ ঘুমের নির্দেশনা অনুযায়ী শিশুকে প্রতিবার ঘুমের সময় চিত করে (পিঠের ওপর) শোয়াতে হবে, শক্ত ও সমতল (ঢালু নয়) বিছানায়, যেখানে শুধু টানটান করে লাগানো একটা চাদর থাকবে। বালিশ, কাঁথার স্তূপ, পাশবালিশ, পুতুল, বাম্পার, কিছুই না।

NHS-এর তালিকাও বলছে ম্যাট্রেস হবে শক্ত, সমতল এবং খাটের মাপে একদম খাপে খাপ, যাতে কোনো ফাঁক না থাকে; সঙ্গে একটা ওয়াটারপ্রুফ কভার আর অন্তত চারটা ফিটেড চাদর। লেপ বা বালিশ ব্যবহার করতে NHS সরাসরি নিষেধ করে, কারণ এতে দম আটকানোর ঝুঁকি থাকে।

ঘুমের জন্য যা লাগবে:

  • একটা আলাদা ছোট খাট, দোলনা-খাট বা বেসিনেট, যা আপনার বিছানার পাশে একই ঘরে রাখা যায়
  • শক্ত, সমতল, মাপমতো ম্যাট্রেস
  • ওয়াটারপ্রুফ ম্যাট্রেস কভার
  • ৪টা বা তার বেশি ফিটেড চাদর
  • প্রয়োজনে পাতলা স্লিপিং ব্যাগ বা হালকা চাদর

যা কিনবেন না: নবজাতকের জন্য বালিশ (সরষের বালিশসহ), খাটের চারপাশের নরম বাম্পার, ঢালু স্লিপার, বা ঘুম পাড়ানোর জন্য দুলতে থাকা সুইং ও বাউন্সার। AAP বলছে কার সিট বা সুইংয়ে শিশু ঘুমিয়ে পড়লে যত দ্রুত সম্ভব তাকে শক্ত, সমতল বিছানায় সরিয়ে দিতে।

পুরো বিষয়টা, যেমন একই ঘরে কতদিন রাখবেন, মশারি বা কাঁথা কীভাবে দেবেন, বিস্তারিত পড়ুন আমাদের নবজাতকের নিরাপদ ঘুম নিয়ে গাইডে। আর কোন বয়সে কতক্ষণ ঘুমায়, তার আন্দাজ পেতে ঘুমের রুটিন টুলটি কাজে লাগবে।

ডায়াপার ও পরিচ্ছন্নতা

নবজাতক দিনে অনেকবার ডায়াপার ভেজায়, তাই প্রথম দিকে এটাই সবচেয়ে দ্রুত ফুরানো জিনিস। NHS-এর তালিকায় আছে নবজাতকের সাইজের কয়েক প্যাকেট ডায়াপার (ডিসপোজেবল বা ধোয়া যায় এমন কাপড়ের, যেটা আপনার সুবিধা), তুলা বা গন্ধহীন, অ্যালকোহলমুক্ত ওয়াইপস, একটা চেঞ্জিং ম্যাট আর ব্যারিয়ার ক্রিম।

বাস্তব কিছু পরামর্শ:

  • নিউবর্ন সাইজের ডায়াপার অনেক বেশি কিনে রাখবেন না। অনেক শিশু কয়েক সপ্তাহেই পরের সাইজে চলে যায়। প্রথমে দুই-এক প্যাকেট রেখে বাকিটা পরে কিনুন।
  • কাপড়ের ন্যাপি যাঁরা ব্যবহার করবেন, তাঁরা বর্ষাকালে শুকানোর ব্যবস্থা আগে থেকে ভেবে রাখুন।
  • ওয়াইপসের বদলে প্রথম দিকে কুসুম গরম পানিতে ভেজানো তুলা দিয়েও পরিষ্কার করা যায়।
  • একটা ছোট ঢাকনাওয়ালা বালতি বা ব্যাগ রাখুন ব্যবহৃত ডায়াপারের জন্য।

গোসল ও ত্বকের যত্ন

নবজাতকের গোসল নিয়ে বাড়িতে নানা মত থাকে। WHO-র পরামর্শ হলো জন্মের পর প্রথম গোসল অন্তত ২৪ ঘণ্টা দেরিতে দেওয়া। এরপর গোসলের জন্য খুব বেশি কিছু লাগে না:

  • একটা ছোট বেবি বাথটাব বা বড় গামলা
  • নরম, শুধু শিশুর জন্য আলাদা ২-৩টা তোয়ালে
  • কয়েকটা নরম কাপড় বা ওয়াশক্লথ
  • শিশুর নখ কাটার ছোট কাঁচি বা ক্লিপার

গোসলের আগে হাত দিয়ে দেখে নিন পানি যেন কুসুম গরম থাকে, আর গোসলের সময় এক মুহূর্তের জন্যও শিশুকে একা রাখবেন না। WHO বলছে নাভির গোড়া শুকনো রাখুন আর তাতে কোনো মলম, তেল বা অন্য কিছু লাগাবেন না। ত্বকের র‍্যাশ বা তেল-লোশন নিয়ে প্রশ্ন থাকলে নিজে থেকে কিছু না লাগিয়ে আগে শিশুর চিকিৎসক বা নার্সকে জিজ্ঞেস করুন।

আমাদের ঘরের কিছু প্রচলিত অভ্যাস, যা এড়িয়ে চলাই নিরাপদ:

  • নাকে বা কানে তেল দেওয়া। তেল শ্বাসনালিতে চলে গেলে ফুসফুসে সংক্রমণ হতে পারে। নাক বা কান পরিষ্কার করতে নিজে থেকে কিছু ঢালবেন না, প্রয়োজন হলে চিকিৎসককে দেখান।
  • চোখে কাজল বা সুরমা। অনেক কাজল-সুরমায় সীসা (lead) থাকতে পারে, আর চোখে সংক্রমণের ঝুঁকিও আছে। নবজাতকের চোখ শুধু পরিষ্কার কুসুম গরম পানিতে ভেজানো তুলা বা নরম কাপড় দিয়ে আলতো মুছুন।
  • গলায় বা হাতে কালো সুতা, তাবিজ বা গয়না। ঘুমের সময় গলায় পেঁচিয়ে যাওয়া বা দম আটকানোর ঝুঁকি আছে (নিচে দেখুন)।

খাওয়ানোর জিনিস

WHO-র পরামর্শ হলো প্রথম ছয় মাস শিশুকে শুধু বুকের দুধ খাওয়ানো, অর্থাৎ পানিও না। তাই বুকের দুধ খাওয়ালে আলাদা করে খুব বেশি কেনার নেই:

  • মায়ের জন্য ২-৩টা আরামদায়ক নার্সিং ব্রা আর ব্রেস্ট প্যাড
  • কয়েকটা মসলিন বা পাতলা সুতির কাপড় (দুধ তোলা মোছার জন্য)
  • খাওয়ানোর সময় পিঠ ঠেকানোর জন্য একটা বালিশ বা কুশন (এটা মায়ের জন্য, শিশুর ঘুমের জন্য নয়)

কোনো কারণে ফর্মুলা খাওয়াতে হলে কোন ধরনের দুধ, কতটুকু আর কীভাবে, সেটা অবশ্যই শিশু বিশেষজ্ঞের সঙ্গে ঠিক করে নিন; সঙ্গে লাগবে বোতল, নিপল আর সেগুলো জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা। মায়ের দুধ খাওয়াতে সমস্যা হলে লজ্জা না পেয়ে চিকিৎসক বা প্রশিক্ষিত ব্রেস্টফিডিং কাউন্সেলরের সাহায্য নিন। ছয় মাস পর কী খাওয়াবেন, সেটা পড়ুন ৬ মাসের বাচ্চার খাবার নিয়ে আমাদের লেখায়।

স্বাস্থ্য ও কাগজপত্র

এগুলো হাতের কাছে এক জায়গায় রাখুন, যাতে রাতে খুঁজতে না হয়:

  • একটা ডিজিটাল থার্মোমিটার
  • শিশুর জন্মসনদ ও টিকা কার্ড, হাসপাতালের ডিসচার্জ কাগজ
  • শিশু বিশেষজ্ঞের ফোন নম্বর আর নিকটস্থ হাসপাতালের ঠিকানা

টিকার তারিখ মনে রাখতে আমাদের টিকার ট্র্যাকার আর ওজন-উচ্চতা লিখে রাখতে গ্রোথ ট্র্যাকার ব্যবহার করতে পারেন।

WHO নবজাতকের কিছু বিপদচিহ্ন চিনে রাখতে বলে: শিশু ঠিকমতো না খেলে, খুব দ্রুত শ্বাস নিলে বা তাপমাত্রা বেশি হলে চিকিৎসার সাহায্য নিন। এর বাইরেও শিশুকে নিস্তেজ লাগলে, খিঁচুনি হলে বা গা অস্বাভাবিক ঠান্ডা লাগলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যান।

এক নজরে চেকলিস্ট

বিভাগযা লাগবেমন্তব্য
কাপড়৬টা স্লিপস্যুট, ৪-৬টা ভেস্ট, ২টা কার্ডিগান, টুপি, মোজাসুতি বেশি, মৌসুম বুঝে
ঘুমআলাদা খাট/বেসিনেট, শক্ত ম্যাট্রেস, ওয়াটারপ্রুফ কভার, ৪টা ফিটেড চাদরবালিশ, বাম্পার নয়
ডায়াপারনিউবর্ন ডায়াপার, তুলা/ওয়াইপস, চেঞ্জিং ম্যাট, ব্যারিয়ার ক্রিমঅল্প অল্প করে কিনুন
গোসলটাব বা গামলা, ২-৩টা তোয়ালে, ওয়াশক্লথ, নখ কাটার ক্লিপারপ্রথম গোসল ২৪ ঘণ্টা পরে
খাওয়ানোনার্সিং ব্রা, ব্রেস্ট প্যাড, মসলিন কাপড়ফর্মুলা লাগলে চিকিৎসকের পরামর্শে
স্বাস্থ্যথার্মোমিটার, টিকা কার্ড, ডাক্তারের নম্বরএক জায়গায় গুছিয়ে রাখুন

যা এখনই না কিনলেও চলবে

প্রথম তিন মাসে অনেক জিনিস আসলে কাজে লাগে না, বা পরে লাগে:

  • অনেক খেলনা। নবজাতকের কাছে আপনার মুখ, কণ্ঠ আর কোলই সবচেয়ে প্রিয় "খেলনা"। সাদা-কালো ছবির কার্ড বা হালকা র‍্যাটলই যথেষ্ট। ৩ বছরের কম বয়সী শিশুর খেলনায় ছোট খোলা অংশ আছে কি না আর প্যাকেটে বয়সের লেবেল দেখে নিন। মাসে মাসে কী শিখছে আর কীভাবে খেলবেন, দেখুন প্রথম বছরে শিশুর বিকাশের ধাপ লেখায়।
  • গলার মালা, চেইন বা সুতা। AAP শিশুদের কোনো গয়না না পরাতে বলে, কারণ এতে দম আটকানো বা গলায় পেঁচিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
  • দাঁত ওঠার জিনিস। সাধারণত আরও কয়েক মাস পর লাগে। তখনকার প্রস্তুতি নিয়ে আছে বাচ্চার দাঁত ওঠার লক্ষণ ও আরামের উপায় লেখাটি।
  • দামি গ্যাজেট। গান-বাজানো দোলনা বা নানা রকম মনিটর ছাড়াও শিশু দিব্যি বড় হয়।

আত্মীয়-স্বজন যখন জিজ্ঞেস করবেন কী উপহার দেবেন, তখন এই তালিকা থেকে বাকি জিনিসগুলো বলে দিতে পারেন। উপহারদাতাদের জন্য আলাদা করে লেখা আছে newborn and Aqiqah gift guide (ইংরেজিতে)।

প্রশ্নোত্তর

নবজাতকের জন্য কয়টা জামা কিনব?

NHS-এর তালিকায় অন্তত ছয়টা স্লিপস্যুট আর চার থেকে ছয়টা ভেস্টের কথা বলা আছে। আপনার বাসায় কাপড় শুকাতে কতক্ষণ লাগে, সেটাও ভাবুন; বর্ষায় একটু বেশি রাখলে সুবিধা। নবজাতক দ্রুত বড় হয়, তাই একদম ছোট সাইজের জামা খুব বেশি কিনবেন না।

নবজাতকের কি বালিশ লাগে?

না। AAP ও NHS দুই সংস্থাই বলছে শিশুর ঘুমের জায়গায় বালিশ, লেপ বা নরম জিনিস রাখা যাবে না, কারণ এতে দম আটকানোর ঝুঁকি বাড়ে। মাথার আকৃতি নিয়ে চিন্তা থাকলে শিশুর চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন।

পুরনো খাট বা ম্যাট্রেস কি ব্যবহার করা যাবে?

পরিষ্কার ও মজবুত খাট আত্মীয়ের কাছ থেকে নিতে পারেন। তবে NHS নতুন ম্যাট্রেস কেনার পরামর্শ দেয়, আর সেটা যেন শক্ত, সমতল ও খাটের মাপে একদম খাপে খাপ হয়।

প্রথম ছয় মাসে কি পানি বা মধু দিতে হয়?

WHO প্রথম ছয় মাস শুধু বুকের দুধ খাওয়ানোর পরামর্শ দেয়, আলাদা করে পানিও নয়। জন্মের পর মধু, মিছরির পানি, গ্রাইপ ওয়াটার বা অন্য কোনো "গুঁড়ি" মুখে দেবেন না। ১২ মাসের আগে মধু একেবারেই নয়, কারণ NHS-এর মতে এতে শিশুর অন্ত্রে গুরুতর অসুখ (infant botulism) হতে পারে। এ নিয়ে পরিবারের বড়দের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে শিশু বিশেষজ্ঞের কথা জানিয়ে দিন।

শীতে নবজাতককে কতটা কাপড় পরাব?

WHO-র পরামর্শ হলো বড়দের চেয়ে এক-দুই স্তর বেশি কাপড়, সঙ্গে টুপি। তবে ঘরের ভেতরে বা ঘুমের সময় বেশি গরম হয়ে যাচ্ছে কি না, শিশুর বুক বা ঘাড়ে হাত দিয়ে দেখুন; ঘামলে এক স্তর কমিয়ে দিন।

তালিকা মিলিয়ে কেনাকাটা

তালিকা হাতে থাকলে অপ্রয়োজনীয় খরচ কমে, আর আসল জিনিসগুলো সময়মতো ঘরে চলে আসে। নীলঘুড়ির বেবি এসেনশিয়ালস কালেকশনে নবজাতকের দরকারি জিনিসগুলো দেখে নিতে পারেন, আর একটু বড় হলে খেলার জিনিসের জন্য আছে ০-১২ মাসের কালেকশন। সারা দেশে ডেলিভারি হয়, ক্যাশ অন ডেলিভারি ও বিকাশে পেমেন্ট করা যায়।

তথ্যসূত্র

  • #নবজাতক
  • #শিশুর যত্ন
  • #চেকলিস্ট
  • #০-৩ মাস
ন

নীলঘুড়ি টিম

সম্পাদনা দল

অভিভাবকদের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিক্স (AAP), ইউনিসেফ (UNICEF) ও সিডিসি (CDC)-র বৈজ্ঞানিক নির্দেশনা এবং স্থানীয় পারিবারিক বাস্তবতার সমন্বয়ে রচিত ও তথ্য-যাচাইকৃত।

লেখাটা ভালো লাগলে আমাদের কালেকশনও দেখে নিন।

কালেকশন দেখুন