সারা বাংলাদেশে হোম ডেলিভারি · ক্যাশ অন ডেলিভারি ও bKash
সব লেখা

ডেভেলপমেন্ট

বাসায় মন্তেসরি পদ্ধতি: শুরু করার সম্পূর্ণ গাইড

নীলঘুড়ি টিম ৯ মিনিটতথ্য যাচাইকৃত ও নির্দেশিকা সমর্থিত

দামি স্কুল বা বিশেষ সরঞ্জাম ছাড়াই ঘরে মন্তেসরি পদ্ধতি শুরু করবেন কীভাবে: শিশুর মাপে পরিবেশ, আসল কাজ, কম খেলনা আর বয়স অনুযায়ী সহজ পরিকল্পনা।

ভাবুন তো, তিন বছরের একটা মেয়ে নিজের ছোট্ট গ্লাসে জগ থেকে পানি ঢালছে। দুই ফোঁটা পড়ল টেবিলে, সে নিজেই একটা কাপড় এনে মুছে ফেলল। অনেক মা-বাবা এমন দৃশ্য দেখলে ভাবেন, এটা নিশ্চয়ই মন্তেসরি স্কুলের ব্যাপার। আমাদের অনেকের ধারণাই তো তাই: মন্তেসরি পদ্ধতি মানেই দামি স্কুল আর কাঠের বিশেষ খেলনার আলমারি।

আসলে মন্তেসরি পদ্ধতির মূল কথাগুলো খুব ঘরোয়া: শিশুকে নিজের কাজ নিজে করার সুযোগ দেওয়া, তার মাপে ঘর গুছিয়ে রাখা, আর বড়দের ধৈর্য ধরে পাশে থাকা। ঢাকা-চট্টগ্রামের ছোট ফ্ল্যাটে, যৌথ পরিবারে, এমনকি বাসায় সাহায্যকারী থাকলেও এগুলো করা যায়।

এই গাইডে পাবেন মন্তেসরি পদ্ধতি আসলে কী, ঘরে কোন পাঁচটা ভাবনা দিয়ে শুরু করবেন, বয়স অনুযায়ী কী করবেন, কোন খেলনা কাজে লাগে, আর একটা চেকলিস্ট যেটা দিয়ে আজ রাত থেকেই শুরু করতে পারবেন।

মন্তেসরি পদ্ধতি আসলে কী

মারিয়া মন্তেসরি ছিলেন ইতালির একজন চিকিৎসক ও শিক্ষাবিদ। Association Montessori Internationale (AMI) জানাচ্ছে, ১৯০৭ সালের ৬ জানুয়ারি রোমের সান লরেঞ্জো এলাকায় তিনি প্রথম "কাসা দেই বামবিনি" (শিশুদের ঘর) চালু করেন। মন্তেসরি শিক্ষার একটা কেন্দ্রীয় ধারণা হলো শিশুকে লক্ষ করা এবং তার আগ্রহ ও মনোযোগ অনুসরণ করা, যাকে ইংরেজিতে বলা হয় "follow the child"।

সহজ ভাষায় বললে, এই পদ্ধতিতে বড়রা শিশুকে সবকিছু শিখিয়ে দেন না। বড়রা একটা গোছানো, নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করেন, ছোট করে দেখিয়ে দেন, তারপর একটু সরে দাঁড়ান। শিশু নিজে চেষ্টা করে, ভুল করে, আবার চেষ্টা করে।

এটা কোনো জাদুকরি ফর্মুলা না, আর বাসায় পুরো স্কুলের মতো করার দরকারও নেই। আপনি যতটুকু পারবেন, ততটুকুই যথেষ্ট।

বাসায় মন্তেসরি পদ্ধতির পাঁচটা মূল ভাবনা

১. শিশুর মাপে সাজানো ঘর

American Montessori Society (AMS) পরামর্শ দেয়, শিশুর জিনিস এমন উচ্চতায় রাখুন যাতে সে নিজে নিতে পারে, আবার কাজ শেষে নিজেই জায়গামতো রাখতে পারে। খোলা, নিচু তাক আর শিশুর চোখের উচ্চতায় খেলনা রাখার কথাও তারা বলে।

বাস্তবে এর মানে: দরজার পাশে নিচু করে একটা হুক, যেখানে ও নিজের ব্যাগ ঝোলাবে। জুতার জন্য একটা ঝুড়ি। খাবার টেবিলের কাছে একটা টুল, যাতে উঠে হাত ধুতে পারে। এসব করতে বাড়তি আসবাব লাগে না, পুরোনো একটা বুকশেলফের নিচের দুই তাকই যথেষ্ট।

২. স্বাধীনতা, তবে সীমার ভেতরে

মন্তেসরি মানে যা খুশি তাই করতে দেওয়া না। মন্তেসরিতে প্রচলিত ধারণা হলো "সীমার ভেতরে স্বাধীনতা": শিশু যত দেখায় যে সে দেওয়া স্বাধীনতা সামলাতে পারছে, সীমা তত একটু একটু করে বাড়ানো হয়। বাসায় এটা হতে পারে এমন: "তুমি লাল জামা বা নীল জামা, যেটা ইচ্ছা পরতে পারো", কিন্তু বৃষ্টির দিনে স্যান্ডেল না, জুতা।

৩. আসল কাজ, আসল জিনিস

AMS বলছে, প্লাস্টিকের খেলনা বাসনের বদলে শিশুর হাতের মাপের আসল জিনিস দিন, আর রান্নাঘরে টুল রাখুন যাতে সে খাবার তৈরিতে হাত লাগাতে পারে। আমাদের ঘরে এটা খুব স্বাভাবিকভাবেই হয়: শিম ছাড়ানো, মটরশুঁটি খোসা ছাড়ানো, ভাতের থালা টেবিলে নেওয়া, শুকনো কাপড় ভাঁজ করা। (ছোট দানা, ভাঙা কাচ বা ধারালো কিছু যেন না থাকে, আর ৩ বছরের নিচের শিশুকে মটরশুঁটির মতো ছোট দানা নিয়ে কাজ করালে পাশে থাকুন, মুখে দেওয়ার ঝুঁকি আছে।) এই ধরনের দৈনন্দিন কাজকে মন্তেসরিতে বলে প্র্যাকটিক্যাল লাইফ। এসব কাজ শিশুকে নিজের টিফিন বক্স খোলা বা ব্যাগ গোছানোর মতো কাজে এগিয়ে নিতে পারে। স্কুলে যাওয়ার আগে বাসায় আর কী কী চর্চা করাবেন, তা নিয়ে আছে স্কুলে ভর্তির আগে শিশুকে কী শেখাবেন লেখাটি।

৪. কম খেলনা, গোছানো তাক

AMS-এর "The Importance of a Simple Environment" লেখায় পরামর্শ আছে, খেলনার একটা অংশ সরিয়ে রাখুন, কয়েক সপ্তাহ পরপর বদলে দিন, আর ভাঙা খেলনা ফেলে দিন। গবেষণাও এর পক্ষে কথা বলে। ইউনিভার্সিটি অব টলেডোর একটা ছোট গবেষণায় ১৮ থেকে ৩০ মাস বয়সী ৩৬টি শিশুকে একবার ৪টি আর একবার ১৬টি খেলনা দিয়ে খেলতে দেওয়া হয়। কম খেলনা থাকার সময় তারা একেকটা খেলনা নিয়ে প্রায় দ্বিগুণ সময় খেলেছে, আর আরও নানা উপায়ে খেলেছে। সহজ নিয়ম: খেলনাগুলো তিন-চার ভাগে ভাগ করুন, একবারে একটা ভাগ তাকে রাখুন, বাকিগুলো বাক্সে তুলে রাখুন, আর দুই-তিন সপ্তাহ পর ভাগ বদলে দিন। শিশু কোনো খেলনা নিয়ে এখনো মগ্ন থাকলে সেটা রেখে দিন।

৫. পর্যবেক্ষণ: আগে দেখুন, পরে সাহায্য করুন

শিশু জুতার ফিতা নিয়ে যুদ্ধ করছে, আমাদের হাত আপনা থেকেই এগিয়ে যায়। AMS বাড়ির কাজ একসঙ্গে দেখিয়ে দিয়ে অনুশীলন করতে বলে। মন্তেসরির চর্চায় সাধারণত ধীরে, কম কথায় একবার দেখিয়ে দিয়ে ওকে চেষ্টা করতে দেওয়া হয়। ভুল হলে সেটাও শেখার অংশ। টেবিলে চিনি পড়ে থাকলে পরে, ওর চোখের আড়ালে মুছে নিন, যাতে ওর উৎসাহ না কমে।

বয়স অনুযায়ী কোথা থেকে শুরু করবেন

নিচের টেবিলটা একটা ধারণা দেওয়ার জন্য। প্রতিটা শিশু নিজের গতিতে এগোয়, তাই বয়সের চেয়ে আপনার সন্তানের আগ্রহ আর সামর্থ্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বয়সঘরে কী করবেনউদাহরণ
০-১ বছরনিরাপদ মেঝেতে নড়াচড়ার জায়গা, হাতের নাগালে দু-তিনটা জিনিসঘরের কাপ, নরম কাপড়, কাঠের চামচ দিয়ে খেলা
১-৩ বছরনিজে খাওয়া, জামা পরা, ছোট কাজে হাত লাগানোটেবিলে প্লাস্টিকের কাপ নেওয়া, খেলনা ঝুড়িতে রাখা
৩-৬ বছরবড় দায়িত্ব, লম্বা মনোযোগের কাজবড়দের তত্ত্বাবধানে পানি ঢালা, টেবিল মোছা, গাছে পানি দেওয়া (ভেজা মেঝেতে পিছলে পড়ার দিকে খেয়াল রাখুন)

AMI জানায়, মন্তেসরির ০-৩ বছরের পরিবেশে জোর দেওয়া হয় নড়াচড়া, ভাষা আর স্বাবলম্বিতার ওপর। মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা CDC-র মাইলস্টোন তালিকাও দেখায় এই বয়সে কী কী সম্ভব: ২ বছরে বেশির ভাগ শিশু চামচ দিয়ে খায়, ৩ বছরে ঢিলা প্যান্ট বা জ্যাকেটের মতো কিছু কাপড় নিজে পরে, আর ৪ বছরে বড়দের তত্ত্বাবধানে নিজে খাবার নেয় বা পানি ঢালে।

ছোট্ট বাচ্চার ক্ষেত্রে UNICEF মনে করিয়ে দেয়, শেখার জন্য দামি খেলনা লাগে না। ঘরের কাপ, নরম কাপড় বা কাঠের চামচের মতো নিরাপদ জিনিস ছুঁয়ে দেখাই তার ইন্দ্রিয়ের জন্য দারুণ অভিজ্ঞতা। এই ধরনের খেলার আরও আইডিয়া পাবেন ঘরের জিনিস দিয়ে সেনসরি প্লে লেখায়।

মন্তেসরি খেলনা বাছাইয়ে যা মাথায় রাখবেন

মন্তেসরি ধাঁচের খেলনা সাধারণত সহজ, একটা নির্দিষ্ট দক্ষতায় মনোযোগ দেয়, আর ব্যাটারি বা আলো-শব্দের ঝলমলানি থাকে না। আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিক্স (AAP) তাদের অভিভাবকদের সাইট HealthyChildren.org-এ বলছে, ব্লক, খালি কৌটা, কাঠের চামচ, শেপ সর্টার আর পাজলের মতো সহজ জিনিসই শিশুর সৃজনশীলতার জন্য সবচেয়ে ভালো, আর ঝলমলে গ্যাজেটের চেয়ে বড়দের সঙ্গে খেলাই শিশুর কাজে বেশি লাগে।

কয়েকটা সহজ নিয়ম:

  • একটা খেলনা, একটা কাজ। যেমন শুধু আকার মেলানো বা শুধু রং মেলানো।
  • শিশুর বয়সের চেয়ে একটু চ্যালেঞ্জিং। খুব সহজ হলে একঘেয়ে, খুব কঠিন হলে হতাশা।
  • ৩ বছরের নিচে ছোট টুকরা নয়। খেলনার গায়ের বয়স-লেবেল দেখুন। AAP-এর পরামর্শ, খেলনার অংশ যেন শিশুর মুখের চেয়ে বড় হয়, আর বাটন ব্যাটারি বা শক্তিশালী চুম্বক থাকা খেলনা এড়িয়ে চলুন।

কোন বয়সে কোন খেলনা মানায়, তা বিস্তারিত আছে মন্তেসরি খেলনা কী, আর কোন বয়সে কোনটি দেবেন লেখায়। আর ০-১২ বছরের সব ধরনের খেলনার বড় ছবিটা পাবেন বয়স অনুযায়ী খেলনা বাছাই গাইডে।

ছোট ফ্ল্যাট আর ব্যস্ত সংসারে বাস্তব সমাধান

জায়গা কম? পুরো ঘর না, এক কোণ দিয়ে শুরু করুন। একটা নিচু তাক, একটা মাদুর আর দেয়ালে নিচু করে একটা আয়না। ইংরেজিতে লেখা আমাদের বাজেটে মন্তেসরি হোম সেটআপ গাইডে (ইংরেজিতে) ঘর ধরে ধরে সাজানোর পরিকল্পনা আছে।

নানু-দাদু সব করে দেন? এটা ভালোবাসা থেকেই আসে। তাঁদের সাথে রাগারাগি না করে একটা-দুটো কাজ বেছে নিন, যেমন "খাওয়ার পর প্লেটটা ও নিজে রান্নাঘরে নিয়ে যাবে।" দাদু যখন দেখবেন নাতি নিজে প্লেট নিয়ে যাচ্ছে, অনেক সময় তিনিই সবচেয়ে বেশি খুশি হন।

বাসায় সাহায্যকারী আছেন? তাঁকেও বুঝিয়ে বলুন যে শিশু নিজে জুতা পরার চেষ্টা করলে একটু সময় দিতে হবে। সকালে স্কুলের তাড়া থাকলে এই চর্চা বিকেলে বা ছুটির দিনে করুন।

লোডশেডিংয়ের সন্ধ্যা? আলো কম থাকলে মটরশুঁটি ছাড়ানো, কাপড় ভাঁজ করা বা পানি ঢালার মতো হাতের কাজগুলো চমৎকার চলে।

গবেষণা কী বলে

সৎভাবে বললে, মন্তেসরি নিয়ে গবেষণা এখনো সীমিত। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের গবেষক Chloë Marshall ২০১৭ সালের এক পর্যালোচনায় লিখেছেন, এক শতাব্দীর বেশি সময় ধরে চালু থাকলেও এই পদ্ধতির কার্যকারিতা খুব কমই আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই হয়েছে।

একই বছর Angeline Lillard ও সহকর্মীরা যুক্তরাষ্ট্রের একটি শহরে লটারির মাধ্যমে ভর্তি হওয়া ১৪১টি শিশুকে ৩ থেকে ৬ বছর বয়স পর্যন্ত অনুসরণ করেন। মন্তেসরি প্রি-স্কুলের শিশুরা পড়াশোনার অর্জন, সামাজিক বোঝাপড়া আর কাজে দক্ষ হওয়ার আগ্রহে এগিয়ে ছিল। তবে গবেষকরা নিজেরাই বড় পরিসরে আরও গবেষণার কথা বলেছেন।

তাই মন্তেসরিকে "একমাত্র সঠিক পদ্ধতি" না ভেবে কয়েকটা কাজের অভ্যাসের উৎস হিসেবে দেখুন: শিশুর মাপে ঘর, নিজের কাজ নিজে করা, কম কিন্তু ভালো খেলনা, আর বড়দের মনোযোগ।

আজ থেকে শুরু করার চেকলিস্ট

  1. ঘরের এক কোণ বেছে নিন, যেখানে শিশু বেশি সময় কাটায়।
  2. নিচু একটা তাকে ৬-৮টা খেলনা রাখুন, বাকিগুলো বাক্সে তুলে আলমারিতে রাখুন।
  3. প্রতিটা খেলনার জন্য আলাদা ঝুড়ি বা ট্রে দিন, যাতে কোনটা কোথায় যায় ও বোঝে।
  4. দরজার পাশে নিচু হুক আর জুতার ঝুড়ি রাখুন।
  5. বাথরুমে বা বেসিনে একটা মজবুত টুল দিন।
  6. রোজ একটা আসল কাজ দিন: প্লেট নেওয়া, গাছে পানি দেওয়া, মোজা জোড়া মেলানো।
  7. নতুন কাজ দেখানোর সময় ধীরে, কম কথায় দেখান।
  8. সপ্তাহে একদিন ১০ মিনিট শুধু বসে দেখুন, ও কীসে বেশি মন দেয়।
  9. দুই-তিন সপ্তাহ পর খেলনা বদলান।
  10. বিকাশ নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা হলে শিশু বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলুন।

প্রশ্নোত্তর

মন্তেসরি পদ্ধতি শুরু করার সঠিক বয়স কোনটা?

জন্ম থেকেই শুরু করা যায়, কারণ মূল ব্যাপারটা পরিবেশ আর বড়দের আচরণ। ছোট্ট বাচ্চার জন্য নিরাপদ মেঝে আর হাতের নাগালে দু-তিনটা জিনিসই যথেষ্ট। ১ থেকে ৩ বছরে নিজে খাওয়া, জামা পরার মতো কাজ যোগ করুন। ৩ বছরের পর দায়িত্ব আর মনোযোগের কাজ বাড়ান।

মন্তেসরি স্কুলে না দিলে কি বাসায় করে লাভ আছে?

হ্যাঁ। স্কুলের প্রশিক্ষিত শিক্ষক আর বিশেষ উপকরণের বিকল্প বাসায় হবে না, কিন্তু স্বাবলম্বী হওয়ার অভ্যাস, গোছানো পরিবেশ আর মনোযোগ দিয়ে খেলার সুযোগ আপনি ঘরেই দিতে পারেন। এগুলো যেকোনো স্কুলে পড়া শিশুর জন্যই কাজে লাগে।

মন্তেসরি করতে কি দামি কাঠের খেলনা কিনতেই হবে?

না। AAP আর UNICEF দুই জায়গাতেই বলা হয়েছে, সহজ ও ঘরোয়া জিনিস দিয়েই শিশু ভালো শেখে। কাঠের ভালো খেলনা টেকসই হয়, কিন্তু শুরুতে ঘরের কৌটা, চামচ, ঝুড়ি দিয়েই কাজ চলে। পরে শিশুর আগ্রহ বুঝে একটা-দুটো করে খেলনা যোগ করুন।

বাচ্চা কথা শোনে না, সব এলোমেলো করে। তাহলে কি মন্তেসরি কাজ করবে না?

এটা খুব স্বাভাবিক, বিশেষ করে ১-৩ বছরে। খেলনার সংখ্যা কমালে আর প্রতিটার নির্দিষ্ট জায়গা থাকলে গোছানো অনেক সহজ হয়। প্রথম কয়েক সপ্তাহ আপনি পাশে থেকে একসাথে গোছান, তারপর ধীরে ধীরে ওর হাতে ছাড়ুন।

বিকাশ নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে কী করব?

CDC বলছে, শিশু এক বা একাধিক মাইলস্টোনে না পৌঁছালে, শেখা কোনো দক্ষতা হারিয়ে ফেললে বা অন্য কোনো দুশ্চিন্তা থাকলে অপেক্ষা না করে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন। মন্তেসরি কার্যক্রম কোনো চিকিৎসা বা থেরাপির বিকল্প না। আপনার শিশুর চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

শুরুর জন্য কিছু সহায়তা

শুরুতে ঘরের জিনিস দিয়েই এগোন। পরে যদি শিশুর মাপের কয়েকটা সহজ, টেকসই খেলনা যোগ করতে চান, নীলঘুড়ির মন্তেসরি খেলনার কালেকশন দেখে নিতে পারেন। বয়স ধরে খুঁজতে চাইলে আছে ১-৩ বছরের আর ৩-৬ বছরের কালেকশন। সারা দেশে ডেলিভারি হয়, ক্যাশ অন ডেলিভারি আর বিকাশে পেমেন্ট করা যায়।

তথ্যসূত্র

  • #মন্তেসরি
  • #০-৬ বছর
  • #শিশুর বিকাশ
  • #খেলনা
  • #প্যারেন্টিং
ন

নীলঘুড়ি টিম

সম্পাদনা দল

অভিভাবকদের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিক্স (AAP), ইউনিসেফ (UNICEF) ও সিডিসি (CDC)-র বৈজ্ঞানিক নির্দেশনা এবং স্থানীয় পারিবারিক বাস্তবতার সমন্বয়ে রচিত ও তথ্য-যাচাইকৃত।

লেখাটা ভালো লাগলে আমাদের কালেকশনও দেখে নিন।

কালেকশন দেখুন