সারা বাংলাদেশে হোম ডেলিভারি · ক্যাশ অন ডেলিভারি ও bKash
সব লেখা

ডেভেলপমেন্ট

মন্তেসরি খেলনা কী, আর কোন বয়সে কোনটি দেবেন

নীলঘুড়ি টিম ৮ মিনিটতথ্য যাচাইকৃত ও নির্দেশিকা সমর্থিত

মন্তেসরি খেলনা চেনার সহজ উপায়, জন্ম থেকে ৬ বছর পর্যন্ত বয়স অনুযায়ী কোন ধরনের খেলনা কাজে লাগে, আর কেনার আগে নিরাপত্তার যে বিষয়গুলো দেখে নেবেন।

অনলাইনে "মন্তেসরি খেলনা" লিখে খুঁজলেই শত শত কাঠের খেলনার ছবি আসে। রংধনু আকারের ব্লক, ছোট ছোট কাঠের বল, পেগবোর্ড, কী নেই। কিন্তু কোনটা আসলে আপনার দেড় বছরের ছেলের কাজে লাগবে, আর কোনটা দুই দিন পর খাটের নিচে চলে যাবে, সেটা বোঝা কঠিন। অনেক বাবা-মা শেষে বেশি করে কিনে ফেলেন, "কোনো একটা তো পছন্দ হবে।"

এই লেখায় সহজ করে বলছি মন্তেসরি খেলনা আসলে কী, কোন বৈশিষ্ট্য দেখে চিনবেন, আর জন্ম থেকে ৬ বছর পর্যন্ত কোন বয়সে কোন ধরনের খেলনা মানায়। সাথে থাকছে কেনার আগের একটা চেকলিস্ট, যাতে কম খেলনায় বেশি কাজ হয়।

ঘরে মন্তেসরির পুরো ভাবনাটা, মানে ঘর সাজানো থেকে দৈনন্দিন রুটিন, জানতে চাইলে আগে পড়ে নিতে পারেন বাসায় মন্তেসরি পদ্ধতি শুরু করার সম্পূর্ণ গাইড।

মন্তেসরি খেলনা কী: চেনার পাঁচটা লক্ষণ

"মন্তেসরি" কোনো ব্র্যান্ড বা সার্টিফিকেট না। যেকোনো দোকান যেকোনো খেলনাকে এই নামে বিক্রি করতে পারে। তাই নাম না দেখে খেলনার বৈশিষ্ট্য দেখুন।

  1. একটা কাজে মনোযোগ। American Montessori Society (AMS) জানায়, মন্তেসরির সেনসরিয়াল উপকরণগুলো এমনভাবে বানানো হয় যাতে একবারে একটাই গুণ আলাদা করে বোঝা যায়, যেমন রং, আকার বা আকৃতি। ঘরের খেলনাতেও এই নীতি কাজে লাগে: শুধু আকার মেলানোর একটা শেপ সর্টার, শুধু বড়-ছোট বোঝার একটা স্ট্যাকিং টাওয়ার।
  2. শিশু নিজে খেলে, খেলনা নিজে খেলে না। ব্যাটারি, আলো আর গান থাকলে অনেক সময় শিশু শুধু বোতাম টেপে আর দেখে।
  3. হাতের মাপে, ধরতে আরাম। ছোট হাতে ধরা যায়, ভারী না, ধার নেই।
  4. বাস্তবের কাছাকাছি। আসল জীবনের জিনিসের ছোট সংস্করণ, যেমন ছোট জগ, ছোট ঝাড়ু।
  5. ভুল নিজেই ধরা যায়। পাজলের টুকরা ভুল জায়গায় বসবে না, শিশু নিজেই বুঝে আবার চেষ্টা করবে।

আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিক্স (AAP) তাদের অভিভাবকদের ওয়েবসাইট HealthyChildren.org-এ বলছে, সবচেয়ে ভালো খেলনা সেগুলো যেগুলো বড়দের সাথে শিশুর খেলাকে উৎসাহ দেয়। ইলেকট্রনিক খেলনা একা একা সেই আদান-প্রদান আর মনোযোগ দিতে পারে না, যা সুস্থ বিকাশের জন্য দরকার। HealthyChildren.org আরও বলে, ব্লক, খালি কৌটা, কাঠের চামচ, শেপ সর্টার আর পাজলের মতো সহজ জিনিস শিশুর সৃজনশীলতাকে সবচেয়ে ভালো সাহায্য করে।

বয়স অনুযায়ী মন্তেসরি খেলনা: এক নজরে

নিচের টেবিলের বয়সগুলো একটা ধারণা মাত্র। আপনার সন্তান কী পারছে আর কীসে আগ্রহী, সেটাই আসল মাপকাঠি। AAP-এর পরামর্শও তাই: খেলনা এমন হোক যা শিশুর এখনকার দক্ষতার সাথে মেলে, আবার নতুন দক্ষতা শিখতে উৎসাহ দেয়।

বয়সকী শিখছেকোন ধরনের খেলনা
০-৬ মাসদেখা, শোনা, ধরানরম কাপড়ের বল, হালকা কাঠের রিং, ঝুনঝুনি
৬-১২ মাসবসা, হামাগুড়ি, এক হাত থেকে অন্য হাতে নেওয়াবাক্সে বল ফেলার খেলনা, বড় কাপ, কাপড়ের বই
১-২ বছরহাঁটা, স্তূপ করা, ভেতরে ঢোকানোস্ট্যাকিং কাপ, সহজ শেপ সর্টার, নব লাগানো বড় পাজল
২-৩ বছরমেলানো, গাঁথা, নিজের কাজ নিজে করাবড় পুঁতি গাঁথা, পেগবোর্ড, ছোট জগ ও কাপ
৩-৬ বছরতুলনা, ক্রম, লম্বা মনোযোগবেশি টুকরার পাজল, বোতাম-চেইন লাগানোর ফ্রেম, আকার ও রং সাজানোর সেট

০ থেকে ১২ মাস: কম জিনিস, বেশি মনোযোগ

এই বয়সে খেলনার চেয়ে বেশি দরকার আপনার মুখ, কণ্ঠ আর কোল। মেঝেতে একটা পরিষ্কার মাদুর পেতে পাশে দু-তিনটা জিনিস রাখুন। UNICEF-এর পরামর্শ, শিশুকে ঘরের নিরাপদ জিনিস যেমন কাপ, নরম কাপড় বা কাঠের চামচ ধরতে দিন, কারণ বিভিন্ন আকার আর স্পর্শ তার ইন্দ্রিয়ের জন্য ভালো অভিজ্ঞতা। বাচ্চা যা-ই ধরুক, পাশে থাকুন।

৬ মাসের পর হামাগুড়ি আর বসার সাথে সাথে "বাক্সে বল ফেলে আবার খুঁজে পাওয়া" ধরনের খেলা ও খুব উপভোগ করে। এই বয়সে মাসে মাসে কী কী বদলায়, তা নিয়ে আছে প্রথম বছরে শিশুর বিকাশের ধাপ লেখা।

এই বয়সে সব কিছু মুখে যায়। তাই খেলনা হতে হবে এমন বড় যাতে গলায় আটকানোর ভয় না থাকে, রং যেন ওঠে না, আর সহজে ধোয়া যায়।

১ থেকে ৩ বছর: হাত ব্যস্ত, মন কৌতূহলী

হাঁটতে শেখার পর শিশু সারাদিন কিছু না কিছু ভরছে, ঢালছে, বের করছে। এটাকে কাজে লাগান।

  • স্ট্যাকিং কাপ বা টাওয়ার: বড়-ছোট বোঝা, ভারসাম্য। UNICEF বলছে, জিনিস স্তূপ করা শিশুকে নড়াচড়া আর জায়গার ধারণা বুঝতে সাহায্য করে।
  • শেপ সর্টার: HealthyChildren.org যেসব সহজ খেলনার কথা বলে, তার মধ্যে শেপ সর্টার আর পাজল আছে। শুরু করুন গোল, চৌকো, ত্রিভুজ এই তিনটা দিয়ে।
  • বড় পুঁতি গাঁথা: CDC-র মাইলস্টোন তালিকায় আছে, ৩ বছরের মধ্যে বেশির ভাগ শিশু বড় পুঁতি বা ম্যাকারনির মতো জিনিস সুতায় গাঁথতে পারে। মোটা সুতা আর বড় পুঁতি দিয়ে শুরু করুন, আর ছোট শিশুকে পুঁতি নিয়ে একা ছাড়বেন না, কারণ মুখে গেলে গলায় আটকাতে পারে।
  • ছোট জগ আর কাপ: প্রথমে শুকনো চাল বা ডাল ঢালা, পরে পানি। শুকনো দানা মুখে বা নাকে দিতে পারে, তাই বড়দের নজরে খেলান।

১-৩ বছরের খেলা নিয়ে আরও আইডিয়া চাইলে দেখুন ১ থেকে ৩ বছরের বাচ্চার খেলনা লেখাটি।

৩ থেকে ৬ বছর: ধাপে ধাপে কঠিন কাজ

এই বয়সে শিশু অনেকক্ষণ এক কাজে মন দিতে পারে, যদি কাজটা তার কাছে চ্যালেঞ্জিং আর অর্থবহ হয়।

  • বোতাম, চেইন, ফিতার ফ্রেম: AMS-এর শিশু ও টডলারদের মূল উপকরণের তালিকায় চেইন, বোতাম, স্ন্যাপ, বাকল আর ভেলক্রোর সহজ ড্রেসিং ফ্রেম আছে। CDC-র তালিকায় ৪ বছরে কিছু বোতাম খোলা আর ৫ বছরে কিছু বোতাম লাগানোর কথা আছে।
  • পাজল: টুকরার সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ান। কোন বয়সে কত টুকরা, সেটা নিয়ে আছে আলাদা লেখা পাজল খেলার উপকারিতা।
  • আকার ও রঙের ক্রম সাজানো সেট: ছোট থেকে বড়, হালকা থেকে গাঢ় সাজানো।
  • পানি ঢালা আর চামচে তোলা: CDC বলছে, ৪ বছরে বেশির ভাগ শিশু বড়দের তত্ত্বাবধানে নিজে খাবার নিতে বা পানি ঢালতে পারে।

কয়টা খেলনা যথেষ্ট?

একবারে তাকে যত কম খেলনা থাকে, তত ভালো। ইউনিভার্সিটি অব টলেডোর এক ছোট গবেষণায় দেখা গেছে, কম খেলনা থাকলে ১৮ থেকে ৩০ মাস বয়সী শিশুরা প্রতিটা খেলনা নিয়ে বেশি সময় আর বেশি রকমে খেলে (বিস্তারিত বাসায় মন্তেসরি গাইডে)। তাই সব খেলনা একসাথে বের না করে কিছু তুলে রাখুন আর কয়েক সপ্তাহ পরপর বদলে দিন।

কেনার আগে নিরাপত্তার চেকলিস্ট

  • বয়সের লেবেল দেখুন। যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা পণ্য নিরাপত্তা কমিশন (CPSC) ৩ বছরের নিচের শিশুর খেলনায় ছোট অংশ নিষিদ্ধ করেছে, কারণ এতে শ্বাসনালিতে আটকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। বাংলাদেশে কেনা খেলনাতেও লেবেল খেয়াল করুন।
  • টুকরা মুখের চেয়ে বড়। AAP-এর পরামর্শ, খেলনার অংশ যেন শিশুর মুখের চেয়ে বড় হয়।
  • বাটন ব্যাটারি আর শক্তিশালী চুম্বক নয়। AAP এ ধরনের খেলনা এড়িয়ে চলতে বলে।
  • রং আর ধার। রং ওঠে কি না, কাঠে কোনো চোখা কোণ বা ফাটল আছে কি না, হাত বুলিয়ে দেখুন।
  • বড় ভাইবোনের খেলনা আলাদা। বড়দের ছোট টুকরার খেলনা ছোট্ট শিশুর নাগালের বাইরে রাখুন।

শিশু কিছু গিলে ফেললে বা শ্বাস নিতে কষ্ট হলে দেরি না করে নিকটস্থ হাসপাতালে নিন।

প্রশ্নোত্তর

মন্তেসরি খেলনা কি শুধু কাঠের হতে হয়?

না। কাঠ টেকসই আর ধরতে আরাম, তাই জনপ্রিয়। কিন্তু আসল কথা খেলনার নকশা: একটা কাজে মনোযোগ, শিশু নিজে চালায়, আর নিরাপদ। ঘরের স্টিলের বাটি, কাপড়ের ঝুড়ি বা পরিষ্কার কৌটাও এই কাজ করতে পারে।

কোন বয়স থেকে মন্তেসরি খেলনা দেওয়া যায়?

জন্মের পর থেকেই সহজ জিনিস দিয়ে শুরু করা যায়, যেমন নরম কাপড়ের বল বা হালকা রিং। ১ বছরের পর স্ট্যাকিং আর শেপ সর্টার, ২-৩ বছরে গাঁথা ও ঢালার খেলা যোগ করুন। সব সময় খেলনার বয়স-লেবেল আর শিশুর সামর্থ্য মিলিয়ে নিন।

ইলেকট্রনিক খেলনা কি একেবারেই দেব না?

একেবারে নিষেধের কথা নেই, তবে AAP বলছে ইলেকট্রনিক খেলনা একা শিশুকে সেই আদান-প্রদান দিতে পারে না যা বড়দের সাথে খেলায় হয়। তাই বেশির ভাগ খেলনা সহজ রাখুন। স্ক্রিন নিয়ে আলাদা ভাবনা থাকলে পড়ুন আমাদের স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণের গাইড।

বাচ্চা খেলনা দিয়ে "ঠিকভাবে" খেলে না, শুধু ছুঁড়ে ফেলে। কী করব?

১-২ বছরে ছুঁড়ে ফেলা খুব স্বাভাবিক, এভাবেও ও শিখছে কী পড়ে, কী গড়ায়। একবার ধীরে দেখিয়ে দিন খেলনাটা কীভাবে চলে, তারপর ওকে নিজের মতো চেষ্টা করতে দিন। ছোড়ার জন্য আলাদা নরম বল দিন।

মন্তেসরি খেলনা কি বিকাশে দেরি ঠিক করতে পারে?

না, কোনো খেলনা চিকিৎসা বা থেরাপির বিকল্প না। শিশু বয়স অনুযায়ী দক্ষতায় না পৌঁছালে বা শেখা দক্ষতা হারিয়ে ফেললে CDC অপেক্ষা না করে চিকিৎসকের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেয়। আপনার শিশুর চিকিৎসক বা শিশু বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলুন।

খেলনা বাছাইয়ে একটু সাহায্য

ওপরের টেবিল আর চেকলিস্ট হাতে নিয়ে বাছাই করলে কম খেলনাতেই কাজ হবে। নীলঘুড়ির মন্তেসরি খেলনার কালেকশন দেখতে পারেন, আর বয়স ধরে খুঁজতে চাইলে আছে ০-১২ মাসের ও ১-৩ বছরের কালেকশন। কোন বয়সে কোন খেলনা, সেই বড় ছবিটা পাবেন বয়স অনুযায়ী খেলনা বাছাই গাইডে। সারা দেশে ডেলিভারি, ক্যাশ অন ডেলিভারি আর বিকাশ দুটোই চলে।

তথ্যসূত্র

  • #মন্তেসরি
  • #খেলনা
  • #০-৬ বছর
  • #শিশুর বিকাশ
ন

নীলঘুড়ি টিম

সম্পাদনা দল

অভিভাবকদের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিক্স (AAP), ইউনিসেফ (UNICEF) ও সিডিসি (CDC)-র বৈজ্ঞানিক নির্দেশনা এবং স্থানীয় পারিবারিক বাস্তবতার সমন্বয়ে রচিত ও তথ্য-যাচাইকৃত।

লেখাটা ভালো লাগলে আমাদের কালেকশনও দেখে নিন।

কালেকশন দেখুন