সারা বাংলাদেশে হোম ডেলিভারি · ক্যাশ অন ডেলিভারি ও bKash
সব লেখা

ডেভেলপমেন্ট

১ থেকে ৩ বছরের বাচ্চার খেলনা ও খেলা: যা আসলে কাজে লাগে

নীলঘুড়ি টিম ৭ মিনিটতথ্য যাচাইকৃত ও নির্দেশিকা সমর্থিত

টডলার সারাদিন ছুটছে, সব খুলছে, সব মুখে দিচ্ছে? ১ থেকে ৩ বছরের বাচ্চার জন্য কোন খেলনা আর কোন ঘরোয়া খেলা সত্যিই কাজে লাগে, জেনে নিন।

দেড় বছরের বাচ্চা থাকলে আপনি জানেন দিনটা কেমন যায়। এই ড্রয়ার খুলছে, ওই তাক থেকে বই নামাচ্ছে, জুতা নিয়ে ঘুরছে, আর দামি খেলনাটা পড়ে আছে এক কোণে। নানু হয়তো বলছেন, "এত খেলনা কিনে কী লাভ, ও তো ডাবের খোসা নিয়েই খুশি।"

কথাটা পুরোপুরি ভুল না। ১ থেকে ৩ বছরের বাচ্চার খেলনা বাছার সময় মনে রাখার মতো বিষয় হলো, এই বয়সের শিশু হাত-পা দিয়ে, মুখ দিয়ে, বারবার একই কাজ করে দুনিয়া চিনছে। তার দরকার এমন জিনিস যেটা সে নিজে নাড়াচাড়া করতে পারে, আর এমন একজন বড় মানুষ যে পাশে বসে খেলে।

এই লেখায় পাবেন এই বয়সে বাচ্চা সাধারণত কী শিখছে, কোন খেলনাগুলো আসলে কাজে লাগে, ঘরের জিনিস দিয়ে ১০টা সহজ খেলা, আর কোন জিনিস না কিনলেও চলে।

এই বয়সে বাচ্চা কী শিখছে

মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা CDC-র মাইলফলক তালিকা অনুযায়ী, ১৮ মাসের মধ্যে বেশির ভাগ শিশু কাগজে আঁকিবুঁকি করে। ২ বছরের মধ্যে তারা বল লাথি দেয়, আর একসঙ্গে একাধিক খেলনা মিলিয়ে খেলে, যেমন খেলনা খাবার খেলনা প্লেটে রাখে। ৩০ মাসের দিকে অনেকে ভান করে খেলা শুরু করে, যেমন একটা ব্লককে খাবার বানিয়ে পুতুলকে খাওয়ায়।

অর্থাৎ এই দুই বছরে তিনটা বড় পরিবর্তন হয়:

  • শরীর: হাঁটা থেকে দৌড়, সিঁড়ি ওঠা, লাথি দেওয়া, ছুড়ে মারা।
  • হাত: মুঠো করে ধরা থেকে আঙুল দিয়ে ছোট জিনিস তোলা, কিছু ভেতরে ভরা, ঢাকনা খোলা।
  • মাথা আর মুখ: কারণ-ফল বোঝা ("এটা ফেললে শব্দ হয়"), নকল করা, প্রথম শব্দ থেকে ছোট বাক্য।

HealthyChildren.org (আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিক্সের অভিভাবকদের ওয়েবসাইট) এই বয়সের জন্য ব্লক, খালি কৌটা, কাঠের চামচ, শেপ সর্টার আর পাজলের মতো সহজ, কম খরচের জিনিস দিতে বলে। তাদের কথায়, দামি ইলেকট্রনিক গ্যাজেট নয়, মা-বাবা আর যত্নকারীর উপস্থিতি আর মনোযোগই এই বয়সে বাচ্চাকে সবচেয়ে বেশি দেয়।

১ থেকে ৩ বছরের বাচ্চার খেলনা: যেগুলো সত্যিই কাজে লাগে

হাতের কাজের খেলনা

  • বড় ব্লক আর স্ট্যাকিং কাপ: সাজানো, ফেলে দেওয়া, আবার সাজানো। AAP-এর খেলনা রিপোর্ট বলছে ব্লক আর পাজলের মতো প্রচলিত খেলনা হাতের সূক্ষ্ম পেশির দক্ষতা (fine motor skill), সমস্যা সমাধান আর ভাষার বিকাশে সাহায্য করে।
  • শেপ সর্টার: গোল, চৌকো, তিনকোনা খোপে ঠিক টুকরোটা ঢোকানো।
  • নব লাগানো কাঠের পাজল: শুরুতে ৩-৫ টুকরোর পাজল যথেষ্ট।
  • মোটা ক্রেয়ন আর বড় কাগজ: আঁকিবুঁকিই এই বয়সের "ছবি আঁকা"।

শরীর নড়ানোর খেলনা

  • বিভিন্ন সাইজের বল: গড়িয়ে দেওয়া, লাথি দেওয়া, দুই হাতে ছুড়ে দেওয়া।
  • ঠেলা বা টেনে নেওয়ার খেলনা: সদ্য হাঁটতে শেখা বাচ্চার খুব প্রিয়।
  • নিচু রাইড-অন খেলনা: পা দিয়ে ঠেলে চালানো যায় এমন। সিঁড়ি, ছাদের কিনারা, রাস্তা আর গেটের কাছ থেকে দূরে, বড়দের নজরে চালাতে দিন।

নকল আর কল্পনার খেলনা

  • খেলনা হাঁড়ি-পাতিল, কাপ-প্লেট: আপনি রান্না করছেন, সে-ও করছে।
  • কাপড়ের পুতুল বা নরম পশু: খাওয়ানো, ঘুম পাড়ানো, গোসল করানো।
  • খেলনা ফোন, ঝাড়ু, বালতি: বড়দের কাজের নকল।

এই খেলাগুলো আড়াই-তিন বছরে গিয়ে পুরোদস্তুর রান্নাবাটি আর ডাক্তার-ডাক্তার খেলায় বদলে যায়। সেটা নিয়ে বিস্তারিত পাবেন প্রিটেন্ড প্লে কেন জরুরি লেখায়।

বই

মোটা বোর্ড-পাতার ছবির বই, যেটা বাচ্চা নিজে উল্টাতে পারে আর চিবালেও ছিঁড়ে যায় না। ছবি দেখিয়ে নাম বলুন, "বিড়াল কোথায়?" জিজ্ঞেস করুন।

মন্তেসরি ধাঁচের খেলনা কোন বয়সে কোনটা দেবেন, সেই তালিকা আছে মন্তেসরি খেলনা কী আর কোন বয়সে কোনটি লেখায়। আর জন্ম থেকে ১২ বছর পর্যন্ত পুরো ছবিটা দেখতে চাইলে পড়ুন বয়স অনুযায়ী খেলনা বাছাইয়ের গাইড।

ঘরের জিনিস দিয়ে ১০টা সহজ খেলা

টডলারের জন্য খেলনার দোকানে যেতেই হবে এমন না। এই খেলাগুলো আজ বিকেলেই শুরু করা যায়:

  1. হাঁড়ি-ঢাকনার ব্যান্ড পার্টি: দুটো স্টিলের বাটি আর একটা কাঠের চামচ। বাচ্চা বাজাবে, আপনি গান গাইবেন।
  2. ভরো আর ঢালো: একটা বড় বাটিতে শুকনো চাল বা ডাল, সঙ্গে একটা চামচ আর একটা কাপ। নিচে পুরোনো চাদর বিছিয়ে নিন, আর পুরো সময় পাশে থাকুন, কারণ এই বয়সে সবকিছুই মুখে যায়।
  3. কৌটায় কৌটা: বিভিন্ন সাইজের খালি প্লাস্টিকের কৌটা, একটার ভেতর আরেকটা ঢোকানো।
  4. টাওয়ার বানাও, ভাঙো: আপনি ব্লক বা খালি বাক্স সাজাবেন, বাচ্চা ধাক্কা দিয়ে ফেলবে। তারপর ওর পালা।
  5. লুকোনো খেলনা: একটা খেলনা কাঁথার নিচে লুকিয়ে জিজ্ঞেস করুন, "কোথায় গেল?"
  6. বালিশের পাহাড়: মেঝেতে বালিশ-কুশন ছড়িয়ে দিন, বাচ্চা হামাগুড়ি দিয়ে বা হেঁটে পার হবে। খাট বা সিঁড়ির কাছে নয়, আর পাশে থাকুন।
  7. বল গড়ানো: দুজন মেঝেতে মুখোমুখি বসে বল গড়িয়ে দেওয়া। পালা করে খেলার প্রথম পাঠ।
  8. কাপড় বাছাই: শুকনো কাপড় তোলার সময় বাচ্চাকে মোজাগুলো আলাদা করতে দিন। ছোট ক্লিপ বা বোতামওয়ালা জামা এড়িয়ে চলুন।
  9. ছবির বইয়ে খোঁজাখুঁজি: "লাল বলটা কোথায়? হাঁসটা কী বলে?"
  10. গানের সঙ্গে নাচ: "আয় আয় চাঁদ মামা" বা যেকোনো ছড়া গেয়ে হাততালি আর ঘুরপাক।

AAP-এর "The Power of Play" রিপোর্ট অনুযায়ী বড়দের সঙ্গে মনোযোগ দিয়ে খেলা শিশুর ভাষা আর আবেগ-সামাজিক বিকাশের জন্য খুব দরকারি। অফিস থেকে ফিরে ফোনটা সরিয়ে রেখে রোজ কিছুক্ষণ শুধু বাচ্চার সঙ্গে খেলাটাই হয়তো দিনের সবচেয়ে ভালো বিনিয়োগ।

খেলার সময় কথা বলুন

এই বয়সে খেলাই ভাষা শেখার সবচেয়ে বড় সুযোগ। বাচ্চা যা করছে সেটা ছোট ছোট বাক্যে বলে দিন: "তুমি লাল ব্লকটা ওপরে রাখলে। ধপাস! পড়ে গেল।" প্রশ্ন করুন, উত্তরের জন্য একটু অপেক্ষা করুন।

বাচ্চার কথা বলা নিয়ে চিন্তা থাকলে শিশু দেরিতে কথা বললে কী করবেন লেখাটা দেখুন, আর প্রয়োজনে আপনার শিশুর চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন।

যা কিনবেন না, বা ভেবে কিনবেন

  • ছোট টুকরোর খেলনা: ৩ বছরের নিচের বাচ্চার জন্য খুলে আসে এমন ছোট অংশ, মার্বেল, ছোট বল বা বোতাম ব্যাটারির খেলনা নয়। HealthyChildren.org বলছে, সব খেলনা আর তার অংশ যেন বাচ্চার মুখের চেয়ে বড় হয়। বাটন ব্যাটারি আর শক্তিশালী চুম্বকের খেলনাও এড়িয়ে চলুন। প্যাকেটের বয়সের লেবেল অবশ্যই দেখুন।
  • সব-কাজ-নিজে-করে খেলনা: যে খেলনায় একটা বোতাম টিপলেই আলো, গান, নাচ সব হয়ে যায়, সেখানে বাচ্চার করার কিছু থাকে না। AAP বলছে, ইলেকট্রনিক খেলনা নিজে থেকে বড়দের সঙ্গে সেই আদান-প্রদান দিতে পারে না যেটা বিকাশের জন্য জরুরি।
  • বয়সের চেয়ে অনেক কঠিন খেলনা: "বড় হলে খেলবে" ভেবে কেনা খেলনা সাধারণত আলমারিতেই থাকে।
  • একসঙ্গে অনেক খেলনা: ইউনিভার্সিটি অব টলেডোর একটা ছোট গবেষণায় দেখা গেছে, ৪টা খেলনা থাকলে টডলাররা ১৬টার তুলনায় প্রতিটা খেলনা নিয়ে বেশি সময় আর বেশি রকমভাবে খেলেছে।

এক নজরে: বয়স ধরে খেলনা ও খেলা

বয়সযা করার চেষ্টা করেযা দিতে পারেন
১২-১৮ মাসহাঁটা, ফেলা, খোলা-ভরাস্ট্যাকিং কাপ, ঠেলার খেলনা, বোর্ড বই, বড় বল
১৮-২৪ মাসআঁকিবুঁকি, লাথি, নকল করামোটা ক্রেয়ন, শেপ সর্টার, খেলনা হাঁড়ি-পাতিল
২-৩ বছরভান করে খেলা, ছোট বাক্য, দৌড়নব পাজল, বড় ব্লক, পুতুল, রাইড-অন খেলনা

প্রশ্নোত্তর

১ বছরের বাচ্চাকে কী খেলনা দেব?

এই বয়সে হাতে ধরে নাড়ানো, ফেলা আর ভেতরে ভরার খেলনাই সবচেয়ে কাজের। স্ট্যাকিং কাপ, বড় ব্লক, নরম বল, ঠেলার খেলনা আর মোটা পাতার ছবির বই দিয়ে শুরু করুন। ছোট টুকরো থাকলে সেটা বাদ দিন।

২ বছরের বাচ্চার জন্য সেরা খেলনা কোনটা?

একক "সেরা" খেলনা বলে কিছু নেই। ২ বছরে বাচ্চা সাধারণত একাধিক খেলনা মিলিয়ে খেলে আর বড়দের নকল করে, তাই খেলনা হাঁড়ি-পাতিল, পুতুল, ব্লক, শেপ সর্টার আর বল একসঙ্গে ভালো কাজ করে। সবচেয়ে বড় কথা, আপনি পাশে বসে খেলুন।

বাচ্চা কোনো খেলনা নিয়েই বেশিক্ষণ খেলে না, কী করব?

এই বয়সে কয়েক মিনিট পরপর খেলা বদলানো খুবই স্বাভাবিক। হাতের কাছে কম খেলনা রাখুন, বাকিগুলো তুলে রাখুন, আর আপনি নিজে কয়েক মিনিট বসে খেলা শুরু করে দিন। মনোযোগ বা বিকাশ নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকলে শিশু বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলুন।

সব কিছু মুখে দেয়, খেলনা কীভাবে নিরাপদ রাখব?

এই বয়সে মুখে দেওয়া স্বাভাবিক, তাই খেলনা ধোয়া যায় এমন হোক, আর কোনো অংশ যেন বাচ্চার মুখে পুরোটা ঢুকে না যায়। বড় ভাইবোনের ছোট খেলনা আলাদা জায়গায় রাখুন। খেলনা মাঝে মাঝে পরীক্ষা করুন, ভাঙা বা খুলে আসা অংশ থাকলে সরিয়ে ফেলুন।

মোবাইলে কার্টুন দেখিয়ে খাওয়ানো কি চলবে?

অনেক পরিবারেই এটা হয়, আর এর জন্য নিজেকে দোষ দেওয়ার কিছু নেই। তবে এই বয়সের জন্য স্ক্রিনের নির্দিষ্ট পরামর্শ আছে, সেটা জানতে আমাদের শিশুর স্ক্রিন টাইম লেখাটা দেখুন। খাওয়ার সময় ছড়া বা গল্প বলা ধীরে ধীরে শুরু করে দেখতে পারেন।

এই বয়সের খেলনা খুঁজলে নীলঘুড়ির ১-৩ বছরের কালেকশন বা মন্তেসরি খেলনা দেখে নিতে পারেন। সারা দেশে ডেলিভারি, সঙ্গে ক্যাশ অন ডেলিভারি আর বিকাশ পেমেন্টের সুবিধা আছে।

তথ্যসূত্র

  • #টডলার
  • #১-৩ বছর
  • #খেলনা
  • #ঘরোয়া খেলা
ন

নীলঘুড়ি টিম

সম্পাদনা দল

অভিভাবকদের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিক্স (AAP), ইউনিসেফ (UNICEF) ও সিডিসি (CDC)-র বৈজ্ঞানিক নির্দেশনা এবং স্থানীয় পারিবারিক বাস্তবতার সমন্বয়ে রচিত ও তথ্য-যাচাইকৃত।

লেখাটা ভালো লাগলে আমাদের কালেকশনও দেখে নিন।

কালেকশন দেখুন